সম্পাদকীয় :: সুকুমার রায়

16
সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়

 

সম্পাদকীয়

একদা নিশীথে এক সম্পাদক গোবেচারা।
পোঁটলা পুঁটলি বাঁধি হইলেন দেশছাড়া।।
অনাহারী সম্পাদকী হাড়ভাঙা খাটুনি সে।
জানে তাহা ভুক্তভোগী অপরে বুঝিবে কিসে?
লেখক পাঠক আদি সকলেরে দিয়া ফাঁকি।
বেচারী ভাবিল মনে- বিদেশে লুকায়ে থাকি।।
এদিকে ত ক্রমে ক্রমে বৎসরেক হল শেষ।
‘নোটিশ’ পড়িল কত ‘সম্পাদক নিরুদ্দেশ’।।
লেখক পাঠকদল রুষিয়া কহিল তবে।
জ্যান্ত হোক মৃত হোক ব্যাটারে ধরিতে হবে।।
বাহির হইল সবে শব্দ করি ‘মার মার’।
-দৈবের লিখন, হায়, খণ্ডাইতে সাধ্য কার।।
একদা কেমনি জানি সম্পাদক মহাশয়।
পড়িলেন ধরা- আহা দুরদৃষ্ট অতিশয়।।
তারপরে কি ঘটিল কি করিল সম্পাদক।
সে সকল বিবরণে নাহি তত আবশ্যক।।
মোট কথা হতভাগ্য সম্পাদক অবশেষে।
বসিলেন আপনার প্রাচীন গদিতে এসে।।
(অর্থাৎ লেখকদল লাঠৌষধি শাসনেতে।
বসায়েছে তারে পুনঃ সম্পাদকী আসনেতে।।)
ঘুচে গেছে বেচারীর ¶ণিক সে শান্তি সুখ।
লেখকের তাড়া খেয়ে সদা তার শুষ্কমুখ।।
দিস্তা দিস্তা পদ্য গদ্য দর্শন সাহিত্য প’ড়ে।
পুনরায় বেচারির নিত্যি নিত্যি মাথা ধরে।।
লোলচর্ম অস্থি সার জীর্ণ বেশ রু² কেশ।
মুহূর্ত সোয়াস্তি নাই- লাঞ্ছনার নাহি শেষ।।