• কিশোরকাল রিপোর্ট

চিপসের প্যাকেটে খেলনা ব্যবহার করা যাবে না বলে মত দিয়েছেন হাইকোর্ট। প্যাকেটের ভেতর খেলনা দিয়ে চিপস বাজারজাত না করার নিমিত্তে নিয়মিত বাজার তদারক করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে খেলনা প্যাকেটের ভেতরে দিয়ে শিশুখাদ্য বাজারজাত করা হলে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুসারে কঠিন পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে রোববার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল নিষ্পত্তি করে পর্যবেক্ষণসহ এই নির্দেশ দেন।

চিপস প্যাকেটের ভেতরে শিশু খেলনা না দিতে নির্দেশনা চেয়ে গত বছরের ৪ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান ওই রিটটি করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ২৪ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন।

প্যাকেটের ভেতর খেলনা দিয়ে চিপসের বাজারজাতকরণ বিষয়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনকে (বিএসটিআই) প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় বিএসটিআই প্রতিবেদন দেয়, যেখানে বলা হয়, সব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত চিপস পণ্যের প্যাকেটে বা মোড়কের ভেতর কোনো খেলনা ব্যবহার করা হচ্ছে না। বিএসটিআইয়ের সার্ভিল্যান্স টিমের মাধ্যমে বাজার তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ জানিয়ে প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।

আদালতে রিটের পক্ষে আবেদনকারী মনিরুজ্জামান নিজে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল তৌফিক সাজাওয়ার।

পরে তৌফিক সাজাওয়ার বলেন, চিপসের প্যাকেটে খেলনা ব্যবহার করা যাবে না বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ জন্য শিশুখাদ্যের ওপর নিয়মিত বাজার তদারক করতে বিএসটিআই এবং ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্যাকেটের ভেতরে খেলনা দিয়ে শিশুখাদ্য বাজারজাত করা হলে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুসারে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

রিট আবেদনকারীর যুক্তি ছিল, চিপসের প্যাকেটের ভেতরে খেলনা দিয়ে বাজারজাতকরণের ফলে শিশুদের চিপস খাওয়ার সময় অবচেতনভাবে খেলনা পেটে ঢুকে যেতে পারে। প্রতিবেশী দেশে এমন ঘটনায় দুটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে খবরে এসেছে। দেশের শিশুদের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে, সে শঙ্কা থেকে শিশুদের মৌলিক ও জীবন রক্ষার অধিকার নিশ্চিতের দিক বিবেচনায় রিটটি করা হয়।