চলমান শিক্ষা সংকটের দুটি সমাধান নিয়ে ভাবছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

308
চলমান শিক্ষা সংকটের দুটি সমাধান নিয়ে ভাবছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়
শিক্ষার্থীরা কবে ক্লাস-পরীক্ষায় বসবে? ফাইল ছবি

কিশোরকাল রিপোর্ট :
নভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকতে পারে। কিছুদিন আগে এক অনুষ্ঠানে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আপাতত ঈদ-উল-ফিতর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে করোনাভাইরাসের যে পরিস্থিতি তাতে ঈদের পরপর স্কুল-কলেজ খোলার মতো পরিস্থিতি নেই। এক্ষত্রে শিক্ষা সংকট সমাধানে সম্ভাব্য দুটি উপায় নিয়ে ভাবছে সংশ্লীষ্টরা।
প্রথমত, চলতি শিক্ষাবর্ষের সময় বাড়িয়ে ও পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের সময় কমিয়ে। সেক্ষত্রে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে ঐচ্ছিক ছুটিও কমে যাবে। অর্থাৎ চলতি শিক্ষাবর্ষ শেষ হবে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। আর আগামী শিক্ষাবর্ষ শুরু হবে ২০২১ সালের মার্চ মাসে।
দ্বিতীয়ত, চলমান শিক্ষাবর্ষের সিলেবাস ও ছুটি কমিয়ে নির্দিষ্ট সময়েই শেষ করা।

 

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে একটি মিটিং করেছি। কবে নাগাদ করোনার প্রকোপ শেষ হবে, আর কবে স্কুল-কলেজ খুলবে সেটার ব্যাপারে আমরা মোটামুটি একটা ধারণা না পেয়ে এগোতে পারছি না। তবে আমরা আরো বৈঠক করব।’

 

এনসিটিবির চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘যদি আগস্ট বা সেপ্টেম্বরে স্কুল খোলে তাহলে আমাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব ছিল চলতি শিক্ষাবর্ষকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া। ফেব্রুয়ারিতেই বার্ষিক পরীক্ষাসহ অন্যান্য পরীক্ষা নেওয়া। এতে শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে পড়ে ও শিখে পরবর্তী শ্রেণীতে উন্নীত হতে পারবে। আর পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ ২০২১ সালের মার্চ থেকে শুরু করা। আগামী শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন ধরনের ছুটি কমিয়ে ১০ মাসে শিক্ষাবর্ষ শেষ করা। তবে বিকল্প প্রস্তাবও এসেছে। সেখানে ২০২০ সালের মধ্যেই সব পরীক্ষা শেষ করার কথা বলা হয়েছে। এতে সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা ও ঐচ্ছিক ছুটি কমানোর কথা বলা হয়েছে। কবে নাগাদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে পারে, সেটা মোটামুটিভাবে জানতে পারলে আমরা চূড়ান্ত প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে পারব।’

গত ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাসের কারণে এই পরীক্ষাসূচি স্থগিত করতে বাধ্য হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু করোনা ভাইরাসে গতিবিধি বোঝা না যাওয়ায় নতুন কোনো পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করতে পারছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে অনিশ্চয়তায় দিন পার করছে প্রায় ১২ লাখ পরীক্ষার্থী।

 

শঙ্কায় আছে জেএসসি ও পিইসি পরীক্ষার্থীরাও। কারণ তারা এই পরীক্ষা শেষে একটি সার্টিফিকেট পায়। ফলে সবাই এই পরীক্ষায় ভালো করতে চায়। ‘এ প্লাস’ পেতে বছরজুড়েই পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের কোচিং-প্রাইভেট পড়ে। দিন-রাত পড়ালেখা করে। কিন্তু এবার সব কিছুই বন্ধ।

 

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অন্তত ১৫ দিন পর থেকে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর এনসিটিবির সঙ্গে বসে অন্যান্য পরীক্ষার ব্যাপারে আমরা একটি যুঁতসহ সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’